দুর্গাপুরে ইউপি মেম্বারের হামলায় নারী সহ গুরুতর আহত -৪

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ১:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০২০

নিউজ ডেস্ক:
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কাকৈরগড়া ইউনিয়নের প্রভাবশালী ইউপি মেম্বরের অতর্কিত হামলায় একই গ্রামের এক পরিবারের নারী সহ চার জন গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মারপিটে গুরুতর আহত চারজন উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ আহত চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান ভূক্তভোগীর স্বজনরা। গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে আহতদের বসত বাড়িতে এ ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও এখনো মামলাটি রেকর্ডভুক্ত হয়নি বলে জানান দুর্গাপুর থানার সহকারি উপপরিদর্শক ইমরুল হাসান।

অভিযোগের লিখিত বিবরণ ও আহতের স্বজন সূত্রে জানা যায়, কাকৈরগড়া ইউনিয়নের পুকুরিয়াকান্দা গ্রামের ফারজুল ইসলামের পুত্র রাসেল আহাম্মেদ ঘটনার তিন পূর্বে তার বাড়ির সামনে গরুকে ঘাস খাওয়াতে ছিলো। এসময় ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বরের চাচাতো ভাই সাইফুল খান (৫৫) তাকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলতে শুরু করে। বখা বাদ্যের প্রতিবাদ করতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ইউপি মেম্বর রহমত উল্লাহ। এরপর থেকেই ওদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা ও মারপিট করতে উদ্যত হয়। এরই জের ধরে গত সোমবার সকাল দশটার দিকে একই গ্রামের মৃত: নুরুল ইসলাম খানের পুত্র ইউপি মেম্বর রহমত উল্লাহ খান (৩০) এর নেতৃত্বে ফরিদ খান (২৫), হেমায়েত উল্লাহ খান(৩৫),মোস্তফা খান(৪০),রবিন খান(৪৫),রামিম খান (২০), ফিরোজ খান (২৭) সহ আরো ৭-৮জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা ও মারপিট করে। এ হামলায় নারী সহ গুরুতর আহত চারজন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মূমুর্ষ অবস্থায় ফারজুল ইসলাম (৫৫),আল আমিনন (৩০),ফারুক আহমেদ (৬০), রাসেল মিয়া(২৬),মরিয়ম আক্তার (৪৫) কে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করে।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মরিয়ম আক্তার কালের কণ্ঠকে জানান, অন্যায়ভাবে আমাদের বাড়িতে ওই ইউপি মেম্বর তার দলবল নিয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলা করেই ক্ষান্ত হননি। আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছে। আমরা অসহায় বলে কি বিচার পাবো না। ওই ইউপি মেম্বর আমার পুত্র বধূর গর্ভবতী কার্ড করে দেয়ার নামে ৭শ টাকাও নিয়েছে। এমনকি সাক্ষর জাল করে প্রথম ভাতাটিও উত্তোলন করে নেয়ার চেস্টা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মারপিটে নেতৃত্ব দেওয়া ইউপি মেম্বর রহমত উল্লাহ’র নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে,অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন,আমি আওয়ামীলীগ নেতা। আমি আওয়ামী দলের ইউপি সদস্য! আমার বিরুদ্ধে মামলা হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। গর্ভবতী কার্ডের টাকা আত্মসাৎ এর ব্যপারে প্রশ্ন করলে তিনি জানান,কারও সাক্ষর জাল করে টাকা উঠানোর যায় কি বলে ফোন সংযোগ কেটে দেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান,এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।