নায়কদের নায়ক: পাওয়ারকে দেখে অ্যাকশন বদলেছিলেন মিরাজ

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০

নিউজ ডেস্ক
ক্রিকেটকে তখন সবে কিছুটা গুরুত্ব দিয়ে দেখার শুরু। নিজেকে খোঁজার ও বোঝার চেষ্টা করছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি দলের সঙ্গে অনুশীলন করতেন। একেকদিন একেকরকম বোলিং অ্যাকশন চেষ্টা করতেন। একদিন টিভিতে দেখলেন রমেশ পাওয়ারের বোলিং। বড় কোনো তারকা ছিলেন না পাওয়ার, খুব পরিচিতও নন। কিন্তু ভারতের এই অফ স্পিনারের অ্যাকশন দারুণভাবে দোলা দিল মিরাজের মনে!

শৈশবে মিরাজের প্রথম বোলিং নায়ক ছিলেন পাওয়ার। ব্যাটিংয়ে অবশ্য আগে থেকেই তার ভালো লাগত একজনকে। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং আর ম্যাচ জেতানো শটটি মনে গেঁথে গিয়েছিল তার। সেদিন থেকে এখনও মিরাজের প্রিয় ব্যাটসম্যান মুশফিক।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে যারা এখনকার নায়ক, বেড়ে ওঠার দিনগুলিতে তাদের কাছেও অনেকে ছিলেন নায়ক। তাদের নিয়েই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ধারাবাহিক আয়োজন ‘নায়কদের নায়ক।’ এই পর্বে মিরাজ শোনাচ্ছেন তার নায়কদের কথা।

‘প্রথম নায়ক মুশফিক ভাই’
“২০০৭ বিশ্বকাপের সময় আমার বয়স ১০ বছরের মত। খুব বেশি কিছু মনে নেই। তবে ভারতকে হারানোর ম্যাচে মুশফিক ভাইয়ের খেলা মনে পড়ে খুব। বাচ্চা বাচ্চা চেহারার একজন মানুষ, বিশ্বকাপের মত জায়গায় এত ভালো খেলছেন! উইনিং শটটা খেলে তিনি দুদিকে হাত প্রসারিত করে ছুটে আসছিলেন, মনে গেঁথে গিয়েছিল একদম।”

“তারপর থেকে মুশফিক ভাই আমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যাটসম্যান সবসময়ই। উনার সঙ্গে যখন দেখা হয়েছে, তখন বলেছি এই কথা। মজার ব্যাপার হলো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার যতটুকু ভালো ব্যাটিং হয়েছে, বেশির ভাগই উনার সঙ্গে। ভালো ভালো জুটি আছে উনার সঙ্গে। ভারতের বিপক্ষে হায়দরাবাদ টেস্টে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ভালো জুটি হয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেড়শ রানের জুটি হলো আমাদের। ওয়ানডেতেও হয়েছে ভালো জুটি।”

“গত বিপিএলে তো ওনার দলে থেকেই ওপরে ব্যাট করার সুযোগ পেলাম। এখানেও ভালো জুটি গড়েছি আমরা দুজন। ওনার সঙ্গে ব্যাটিংয়ের একটা সুবিধা হলো, উনি প্রচুর কথা বলেন। আমাকে তা খুব সাহায্য করে। আরেকপাশ থেকে দেখে বলেন এভাবে খেলতে হবে, ওভাবে করতে হবে। অমুক বোলারকে সামলে খেলতে হবে, তমুককে আক্রমণ করতে হবে। এসব।”

“গত বিপিএলের একটি ম্যাচের কথা বলি, যেদিন মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে আমার ১৬৮ রানের জুটি হলো। আমি শুরুতে টাইমিং খুব বেশি ভালো করতে পারছিলাম না। ২০ বলে ২২ রানের মত ছিল। মুশফিক ভাই এসেই দারুণ খেলতে থাকলেন। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না তখনও। মুশফিক ভাই এক পর্যায়ে বললেন, ‘আরে পাগল, ভাবাভাবি বাদ দে, মাথা ক্লিয়ার কর। বল আসবে, মারবি। আর কিছু ভাবতে হবে না।’ এরপরই সৌম্যকে ছক্কা মারলাম, দক্ষিণ আফ্রিকার স্টিয়ান ফনজিলকে ২ ছক্কা মারলাম। ৩৩ বলে ফিফটি করে ফেললাম।”
সূত্র bdnews24.com