1. rajeshgourpress@gmail.com : rajesh24 :
  2. mediaitbd@gmail.com : mit : Editor
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:

কেবল শ্বাসতন্ত্র নয়, কোভিড-১৯ বিগড়ে দিতে পারে পুরো শরীর

  • আপডেট: সোমবার, ১৮ মে, ২০২০
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক
সর্দি, হাঁচি-কাশি, জ্বর, শরীর ব্যথা, শ্বাসকষ্ট- এসবই নভেল করোনাভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ এর উপসর্গ- এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে বিশ্বে কয়েক লাখ প্রাণ কেড়ে নেওয়া রোগটি শুধু আপনার শ্বাসযন্ত্রকেই কাবু করবে না, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও নড়বড়ে করে দিতে পারে।

সিএনএনের স্বাস্থ্য বিষয়ক এক নিবন্ধে একজন কোভিড-১৯ রোগীর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যিনি সংক্রমিত হওয়ার প্রথম ১০ দিন মোটামুটি ভালোই ছিলেন। নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা সাধারণত বলা হয়, তাও ছিল না ৩৮ বছর বয়সী ওই রোগীর। বাসায় রেখেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

বাসায় থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া ওই রোগীর ফুসফুসে সামান্য সমসা ছিল জানিয়ে নিউ ইয়র্কের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শন ওয়েঙ্গারটার বলেন, “জরুরিভিত্তিতে স্থানীয় এক ক্লিনিকে তাকে পরীক্ষা করা হয় এবং বাসায় থাকাটাই তার জন্য উপযুক্ত হবে বলে জানানো হয়। তার শুধু কিছুটা কাশি ছিল।”

১০ দিন পরই ওই রোগীর নতুন এক উপসর্গ সবাইকে হতভম্ব করে দেয়।

“তার দুই পা অসাড় হয়ে গিয়েছিল আর এতটাই দুর্বলবোধ করছিল যে হাঁটতেই পারছিল না,” বলেন গুড সামারিটান হাসপাতালের ওয়েস্টচেসটার মেডিকেল সেন্টার হেলথের ভাসক্যুলার সার্জারি বিভাগের প্রধান ওয়েঙ্গারটার।

রক্ত জমাট বাঁধতে পারে করোনাভাইরাস

পরে পরীক্ষা করে তরুণ ওই রোগীর মূল ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা দেখা যায়। শরীরের যে স্থানে ধমনী বিভক্ত হয়ে দুই পায়ের দিকে গেছে, ঠিক সেই সংযোগস্থলেই রক্ত জমাট বেঁধেছিল। ফলে তার দুই পায়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে তার দুই পা অসাড় হয়ে যায়।

দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জমাটবাঁধা রক্ত অপসারণে প্রাণে বেঁচে যান ওই তরুণ।

“এমনটা শুধু যে ৩৮ বছর বয়সী একজন রোগীর ক্ষেত্রেই হবে তা কিন্তু নয়,” বলেন ডা. ওয়েঙ্গারটার।

বিষয়টি এতটাই ভয়াবহ যে, এর ফলে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

শুধু শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বাঁধাই নয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকরা কিডনি অকার্যকর হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের প্রদাহ এবং রোগ প্রতিরোধ (ইমিউন) ক্ষমতায় জটিলতার মতো ভীতিকর লক্ষণও দেখতে পাচ্ছেন।

কোভিড-১৯ এর নতুন নতুন উপসর্গ নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা কলেজ অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক স্কট বার্কেনরিজ বলেন, “এটি একই সাথে কৌতুহলোদ্দীপক এবং হতাশার যে, রোগটি বিভিন্ন উপায়ে জানান দিচ্ছে।”

একইসাথে অকেজো হতে পারে অনেক অঙ্গ

ডা. ওয়েঙ্গারটারের মতে, কোভিড-১৯ যেমন কারও কারও শ্বাসযন্ত্রে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, পাশাপাশি আক্রান্তদের একই সাথে বেশকিছু অঙ্গও অকেজো হয়ে পড়ার ঘটনাও দেখা গেছে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাতেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

নতুন করোনাভাইরাসটি শ্বাসতন্ত্রেই বেশি আঘাত করলেও এটি এখন পরিষ্কার যে আক্রান্ত কারও কারও পুরো শরীরই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই ভাইরাসে আক্রান্তদের স্বাভাবিক কিছু লক্ষণ হচ্ছে জ্বর, নিউমোনিয়া এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট। কিন্তু ভাইরাসটি শরীরের আরও কিছু অঙ্গকে সরাসরি আক্রান্ত করতে পারে, যার মধ্যে একটি হচ্ছে রক্ত চলাচলকে বাধাগ্রস্ত, যা রক্ত জমাট বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

“ভাইরাসটি সরাসরি রক্তনালীতে আক্রমষ করার কারণেই এটি ঘটছে,” বলেন ডা ওয়েঙ্গারটার।
চিকিৎসকদের আরেকটি দল কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত অপেক্ষাকৃত তরুণ রোগীদের অনেককেই স্ট্রোকও করতে দেখেছেন। কারও কারও ফুসফুসেও রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে।

কোনো কোনো রোগীর সরু রক্তনালীতেও ছোট আকারে জমাট রক্ত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের সিডার্স-সিনাই মডিকেল সেন্টারের আইসিইউর চিকিৎসক ওরেন ফ্রিডম্যান।

“এটা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই যে, ভাইরাসটি রক্ত জমিয়ে দিতে পারে এবং শিরা-ধমনীতে সরাসরি আক্রান্ত করতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে পুরো শরীরই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

“রক্তনালীগুলোই শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রতঙ্গকে সচল রাখে, ফলে ভাইরাসটি যদি সেগুলোকেই আক্রান্ত করে তাহলে আপনার অঙ্গগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ডা. বার্কিনরিজ বলেন, “চিত্রটি খুবই বিভ্রান্তিকর, বিষয়টি বুঝতে আরও সময় লাগবে।”

‘অতিসক্রিয়’ হতে পারে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

সূত্র- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

আরো সংবাদ পড়ুন
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের যোকোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার