1. rajeshgourpress@gmail.com : rajesh24 :
  2. mediaitbd@gmail.com : mit : Editor
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
শিরোনাম:
দুর্গাপুরে রিক্সাচালক তারা মিয়ার শিক্ষা উপকরন বিতরন দুর্গাপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় একজন নিহত কাসন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে সকলের দোয়া প্রার্থী মনির হোসাইন মানিক দুর্গাপুর হেল্পলাইন গ্রুপ কতৃক আয়োজিত প্রতিযোগিতা বিজয়ীদের পুরুষ্কার বিতরণ দুর্গাপুরে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করে পথ পাঠাগার দুর্গাপুরে প্রিপ ট্রাস্টের কমিউনিটি ডায়ালগ সেশন বিষয়ক কর্মশালা দুর্গাপুরে প্রিপ ট্রাস্টের কমিউনিটি ডায়ালগ সেশন বিষয়ক কর্মশালা দুর্গাপুরে প্রিপ ট্রাস্টের সাম্প্রদায়িক অধিকার বিষয়ক কর্মশালা কলমাকান্দায় আগুন পুড়ে যাওয়া বাড়ির মালিকের পাশে দাড়ালেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জয়নাল আবেদীন কলমাকান্দায় জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা ও আশ্রয়ন প্রকল্প উদ্ভোধন

সাদা মাটির পাহাড়ে

  • আপডেট: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০
  • ১৩২ বার পড়া হয়েছে

বিভিন্ন গণমাধ্যমে যখন কোনো মনোরম পরিবেশের দৃশ্য বা অরণ্যের ছবি দেখা হয়, তখন মনে হয় সবাই মিলে যদি সেখানে ঘুরে আসা যেত, তা হলে কতই না আনন্দ হতো! ঝরনার ছবি দেখে চেয়ে থাকা, সাগরের ছবি দেখে বুকের ভেতরটা হাহাকার হয়ে ওঠা, অরণ্যের ছবি দেখে কিছুক্ষণের জন্য হলেও হারিয়ে যেতে কার না ইচ্ছা করে? প্রকৃতির রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আমরা প্রতিদিন পাঠ গ্রহণের পেছনে ছুটে বেড়াই, বিশেষ করে শীত মৌসুমে এই স্বপ্ন আরও গভীর হয়। সত্যিই একদিন সবকিছু রেখে ঘুরে বেড়ানোর দিন আসে, স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়।

বলছি সম্প্রতি আমাদের ভারত-বাংলার সীমান্তবর্তী নেত্রকোনা জেলাধীন দুর্গাপুর উপজেলার কিছু স্থান তথা প্রকৃতিতে হারিয়ে যাওয়ার কথা। গত ১৮ জানুয়ারি ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দমোহন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের কয়েক ছাত্র মিলে সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত হয়ে আমরা সবাই এদিনকেই ঠিক করি দুর্গাপুর তথা প্রকৃতিতে হারিয়ে যেতে। যেই কথা, সেই কাজ। এদিনটিতে যা হয়, এর সবটুকুই আনন্দ আর আনন্দ। এই একটা দিন সবাই মিলে অনেক হাসি, গান, আড্ডা, গল্প আর অরণ্যের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া। আনন্দ ভ্রমণ বলে কথা! কনকনে শীতসহ সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আমরা সকাল ৮টায় পৌঁছে গেলাম আনন্দমোহম কলেজ মাঠে। আর গাড়িতে করে ওই আনন্দময় স্থানের উদ্দেশে রওনা হলাম সাড়ে ৮টায় এবং পৌঁছেও গেলাম যথাসময়ে। আমাদের নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে মনে হলো আজ হয়তো আমরাই দুর্গাপুর ভ্রমণের সেরা দল। শুরু হলো এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি, ক্যামেরাবন্দি হওয়া। আমাদের সবার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠল মনসাপাড়া এডভেন্টিস্ট অ্যান্ড সেমিনারি অ্যান্ড স্কুল (শনিবারের মিশন নামে পরিচিত), বিজিবি ক্যাম্প এলাকা, গুচ্ছ গ্রাম, কমলা বাগান নামক স্থানগুলো।

দুপুর ১টায় কুহিনুর পাহাড়ে যাওয়ার উদ্দশে রওনা হলাম। ১টা ২০ মিনিটে সেখানে গিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য সবাই একত্রে গোল হয়ে বসলাম। আমরা প্রায়ই হয়তো এ রকম খাবার খাই। কিন্তু এ রকম আয়োজনের জন্য এমন মজাদার খাবার তৈরি করার মতো বাবুর্চি কমই মেলে। তা ছাড়া বিশাল এ শিক্ষাসমাজ নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে খোলা আকাশের নিচে বসে সবাই মিলে এভাবে খাবার খাওয়া সচরাচর হয় না। খাওয়া শেষে একটু বিশ্রাম নেয়ার পালা। ঘাসের বিছানায় বসে ছোট ছোট দল হয়ে গল্প, আড্ডা, ছবি তোলা, সুরেলা আর বেসুরেলা গলায় গান এবং অযথাই হাসাহাসি যেন ঘটে যাওয়া অতীতের সব দুঃখকে ভুলিয়ে দেয়।

দুপুর ২টায় খাওয়া ও আড্ডা শেষে আবার যাত্রা শুরু আমাদের সেই কাক্সিক্ষত স্থান সাদা (চীনা) মাটির পাহাড় নামক স্থানটির উদ্দেশে। সেখানে পৌঁছানোর পর ঘোরাঘুরি ও ছবি তোলার এক আনন্দময়ী পরিবেশ যেন ভুলে যাওয়ার নয়।

সাদা মাটির পাহাড় সম্পর্কে একটু না বললেই নয়। বিজয়পুরের এই সাদা মাটির পাহাড়কে অনেকেই চীনা মাটির পাহাড় বলে থাকে। তবে এটি পুরোপুরি সাদা মাটির পাহাড় নয়। এর রঙ হালকা ধূসর থেকে সাদাটে আকার। কোথাও আবার লালচে, নানা রঙের খেলা এ পাহাড়ে। কোথাও মসৃণ, কোথাও খসখসে। পাহাড়ের ওপর-নিচে তাকালে দেখতে পাওয়া যায় দারুণ এক প্রকৃতি। পাহাড়ের নিচে যেখান থেকে মাটি তোলা হয়েছে, সেখানে পানি। এই পানির রঙ অনেকটা সবুজ এবং ওই সবুজের ওপর নীল আকাশ আর সাদা মেঘ।

সাদা মাটির পাহাড় ঘোরাঘুরি শেষে ভ্রমণে যাওয়া সবার জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজনও ছিল। ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, চামচ-মার্বেল মুখ নিয়ে দৌড়, বালিশ খেলা ইত্যাদিÑ এ যেন এক আনন্দপূর্ণ পরিবেশ।

এরই মধ্যে ক্রমেই দিন শেষ হতে থাকে। ফেরার সময় হয়ে আসায় আমাদের মনটা বেদনায় ভারাক্রান্ত থাকে। ফেরার জন্য প্রস্তুতির আগেই আমাদের এই ভ্রমণকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে সবাই মিলে আবার ফটোসেশনে অংশ নিই। পুরো দিনটি সবাই ঘোরাঘুরি, ফটোসেশন, গান, আড্ডায় মাতিয়ে রেখেছিল স্থানটি। তাই দিনটি হয়তো অনেকের কাছেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন ভ্রমণপিপাসু এসব প্রকৃতিপ্রেমী।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বিরিশিরিতে বাস চলাচল করে থাকে। ইচ্ছা করলে সেখান থেকে ময়মনসিংহগামী গেটলক বাসে চড়ে প্রায় তিন ঘণ্টায় ময়মনসিংহে পৌঁছার পর শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের কাছ থেকে দেড়-দুই ঘণ্টায় বাস কিংবা সিএনজিচালিত ট্যাক্সিতে বিরিশিরিতে যাওয়া যায়। এ ছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে নেত্রকোনার জারিয়া হয়েও যাওয়া যায়। ট্রেনে চড়ে ময়মনসিংহে নেমেও যাওয়া যায়।

বিরিশিরি নামার পর ইজিবাইক অথবা অটোরিকশায় করে দুর্গাপুর শহর হয়ে শিবগঞ্জ ঢালায় নেমে গুদারা পার হয়ে নদীর ওপারে দেখতে পাবেন আপনার জন্য অপেক্ষা করছে মোটরবাইক, অটোরিকশা আর ইজিবাইক। দরদাম করে সোজা চলে যাবেন বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্পের সামনে। তারপর ইচ্ছামতো ঘোরাফেরা। সেখানে যাওয়ার আগে সঙ্গে করে শুকনো খাবার ও পানীয় নিতে পারেন।

যদি রাতযাপন করতে চান, ভালোমানের কোনো হোটেল কিংবা রেস্ট হাউসে থাকতে চান, তা হলে তাদের জন্য রয়েছে বিরিশিরিতে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমির রেস্ট হাউস, ওয়াইএমসি এবং ওয়াইডব্লিউসিএ’তে এসি ও নন-এসির ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমতির প্রয়োজন। এ ছাড়া সাধারণের জন্য দুর্গাপুর শহরে রয়েছে গুলশান, জবা ও সুসংসহ বেশকিছু আবাসিক হোটেল। ভ্রমণ শেষে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিরিশিরি থেকে বাস, সিএনজি ও মোটরবাইক যে কোনোটিতে করে ফিরতে পারবেন।

সূত্র-আমাদের সময়

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

আরো সংবাদ পড়ুন
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের যোকোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার