দুর্গাপুরে শয্যাশায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ, খোঁজ নেননি কেউ!

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২০

মামুন রণবীর

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন সম্মুখ যোদ্ধা।সেই উত্তাল দিনগুলোতে নিজের জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করার সাহস বুনেছিলেন বুকের ভেতর। তার সেই অকুতোভয় লড়াই আজ ইতিহাস। অথচ সেই মহান মানুষটি আজ যখন জীবন সায়াহ্নে এসে বেঁচে থাকার তীব্র লড়াই করছেন তখন তার খোঁজ নেবার কেউ নেই। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ। একাত্তরে পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ১১ নং সেক্টরে।

এই বীর সৈনিক বয়সের ভারে নানা রোগাক্রান্ত হয়ে এখন শয্যাশায়ী। তার শারিরীক অবস্থা এতোটাই নাজুক যে তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। গত বুধবার দুর্গাপুরের বালিকান্দিস্থ তার বাসায় গিয়ে দেখা যায় তিনি শয্যাশায়ী,স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছেন না। খুব চেষ্টা করে দু একটি কথা বললেও সেটি অস্পষ্টই থেকে যাচ্ছে। যতোবার কথা বলতে চাইছেন ততোবার তার চোখ ছলছল করছে। এ যেন আরেকবার উঠে দাঁড়াবার ইচ্ছে।

বর্তমানে তিনি হেপাটাইটিস সি,ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। ব্লক ধরা পড়েছে তার হার্টে। ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার চিকিৎসা করেছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। আট মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে তাকে অর্থ সহায়তা দেয়া হয়। সে অর্থ দিয়ে চলে চিকিৎসা। এই অর্থের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং। এই সহায়তা ছাড়া আর কোন সেক্টর থেকে তাকে সহায়তা করা হয়নি।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে কবি শাওন হাসান জানান, গত তিন মাস ধরে আব্দুল হামিদ শয্যাশায়ী। তার জীবন এখন ঔষধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে। এক একটি দিন পার হয় খুব যন্ত্রণায়। তিনি বলেন,উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। নিজেদের যেটুকু ছিলো সেটা দিয়ে আমরা চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। প্রতি মুহূর্ত দুশ্চিন্তায় থাকি। প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে কিছুটা হলেও তার যন্ত্রণা উপশম করা সম্ভব হতো।

শাওন হাসান আরো জানান তার পিতা শয্যাশায়ী হবার পর এ পর্যন্ত কেউই খোঁজ নিতে আসেননি।

গত বুধবার সন্ধ্যায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাসায় যাই আমি। আরো ছিলেন দুর্গাপুর সাহিত্য সমাজের সভাপতি নাজমুল হুদা সারোয়ার এবং আলোকচিত্রী মাসুদ রানা। আমরা গিয়ে দেখি তার সার্বিক অবস্থা। বিভিন্ন রোগে কাবু হয়ে এই সফেদ মানুষটি বিছানায় পড়ে আছেন। আমাদের দিকে তিনি এক চোখে তাকালেন,অন্য চোখ বন্ধ। আমরা সালাম দিলাম। তিনি কিছু বলতে চাইলেন কিন্তু অস্পষ্টই রয়ে গেল তার সে কথা।

এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলে জানলাম শয্যাশায়ী হবার পর সামান্য খোঁজটুকুও নেননি দুর্গাপুরের কেউ। বিষয়টি জানার পর তীব্র ধাক্কা খেলাম। এভাবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তিলে তিলে শেষ হয়ে যাবেন এটা মেনে নেয়া খুব বেদনার।

আমরা আসলে আমাদের সোনার মানুষদের মূল্যায়ন করতে শিখিনি। আমাদের এই ব্যর্থতা কি আদৌ ঘুচবে?