দুর্গাপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন, আসামী গ্রেপ্তার

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

শফিকুল আলম সজীব,দুর্গাপুর,প্রতিনিধি
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিখোঁজের একদিন পর হাফসানা আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই কিশোরীকে ভগ্নিপতি আবুল কাশেম (২৮) ধর্ষণের পর হত্যা করে পাহাড়ের গর্তে ফেলে দেয়। গতকাল বুধবার ওই ধর্ষককে গ্রেপ্তারের পর ১৬৪ ধারার জবান বন্দিতে আবুল কাশেম এ লোমহর্ষক হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে স্বীকার করেছেন বলে জানান দুর্গাপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান।

সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ কিশোরীকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে খুন হাফসানা আক্তার উপজেলার দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের দিনমজুর আবু ছালেকের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। গত বুধবার সকালে পাহাড়ে কচুর লতি সংগ্রহ করতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সবখানে খুঁজেও হাফসানাকে না পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়। পরদিন স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে পাহাড়ের গর্তে মুখে কাপড় গুজা অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর থেকেই ওসি মো. মিজানুর রহমান জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন মহলের দিক নির্দেশনায় ওসি তদন্ত মীর মাহবুব ও থানার অন্য অফিসারদের সহায়তায়, বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানে বুধবার রাতে কিশোরীর সহোদর বোন জামাই আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করলে ১৬৪ ধারার জবান বন্দিতে কাশেম জানায়, বুধবার দুপুরে হাফসানা পাহাড়ে কচুর লতি সংগ্রহ করতে গেলে কাশেম দুর থেকে তা দেখতে পায়। কাছে গিয়ে নানা অজুহাতে শ্যালিকার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাঁকে বিয়ে করে দুরে কোথায় চলে যাবে মর্মে তাকে ধর্ষণ করে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলে আফসানা কে আপাতত বিয়ে করবে না বলে জানায় ধর্ষক। ওই কিশোরী বিষয়টি বুঝতে পেরে ধর্ষণের বিষয়টি বাড়ীতে জানিয়ে দিবে বললে উত্তেজিত হয়ে কিশোরীর গায়ের ওঁড়না পেঁচিয়ে, মুখে কাপঁড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঐদিন রাতে কিশোরীর লাশ পাহাড়ের গর্তে ফেলে স্থান ত্যাগ করে।

এ নিয়ে মেয়েটির বাবা থানায় একটি অভিযোগ করলে পুলিশের উর্দ্ধতন মহলের তত্বাবধানে আবুল কাশেম কে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ মামলা রুজু করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, হত্যা ও লাশ গুমের অপরাধে দুর্গাপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পাটানো হয়। বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।