দুর্গাপুরে সাংবাদিকদের সাথে হ্যালোআইএম প্রকল্পের মতবিনিময়

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

রাজেশ গৌড়
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বেসরকারী উন্নয়ন ডিএসকে এর হ্যালোআইএম (হিয়া)প্রকল্পের সাথে বাল্যবিবাহ ও ঝড়ে পড়া রোধ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএসকে মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও কমিউনিটি সেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতিতে প্রকল্প সহযোগি মজিবুর রহমান নয়ন এর সঞ্চলনায় বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রজেক্ট অফিসার (হিয়া) রুপন কুমার সরকার। অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন প্রজেক্ট ম্যানেজার (ইউবিআর) কাজী হুমায়ুন কবীর,প্রেসক্লাব সভাপতি নির্মলেন্দু সরকার বাবুল, সাধারণ সম্পাদক তোবারক হোসেন খোকন, সাংবাদিক ওয়ালি হাসান, রিফাত আহমেদ রাসেল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন বাল্যবিয়ে, প্রথমত, মেয়েশিশুর জন্য অধিকার লঙ্ঘন। দ্বিতীয়ত, এটি নির্যাতন। সর্বোপরি, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ও আইনগত অপরাধ। প্রত্যেক কিশোর-কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক পরিপূর্ণতা লাভের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন।
বিজ্ঞানসম্মতভাবে ১৮ বছরের আগে একটি মেয়ে কখনও পরিপূর্ণ বিকাশ লাভ করে না। সঠিক বয়সের আগে মা হওয়ায় দেশে ৩০ শতাংশ নারী এবং ৪১
শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষাগ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে যথাযথ জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে না মেয়েশিশু। তার উপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি হয়। পরিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব নেওয়ার মতো মানসিক শক্তি, সাহস ও দৃঢ়তা অর্জন করতে পারে না সে।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আমাদেরও কিছু করণীয় রয়েছে। অভিভাবক হিসেবে আমরা প্রতিজ্ঞা করব ১৮ বছরের আগে কোনো মেয়েকে এবং ২১ বছর বয়সের আগে কোনো ছেলেকে বিয়ে দেব না। প্রাপ্তবয়সের আগে নিজের ছেলে বা মেয়ে যাতে তাদের পছন্দে বিয়ে না করে সেজন্য তাদের পাশে থেকে তাদের মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরিতে সহায়তা করব। প্রতিজ্ঞা করব যে, বিয়ে নয় বরং মেয়েশিশুর জীবনে শিক্ষা অর্জন ও সাবলম্বী হওয়াই অন্যতম লক্ষ্য। বিয়ের পাত্রী হিসেবে মেয়েকে গড়ে তোলার চেয়েও তাকে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে মূল দায়িত্ব। প্রয়োজনে পড়াশুনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করব। মেয়ে শিশু যেন পরিণত বয়সে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হতে পারে সে জন্য উৎসাহিত করব এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করব।