কলমাকান্দায় অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে ফের বন্যা

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ২:১২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ফের বন্যায় কলমাকান্দা, নাজিরপুর, পোগলা, বড়খাপন, খারনৈ, রংছাতি, লেংগুড়া ও কৈলাটী ইউনিয়নের দুইশতাধিত গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থের স্বীকার হয়েছেন নিæ আয়ের লোকজন। বন্যায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তা-ঘাট তলিয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানির মধ্যে আটকে পড়া মানুষগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। তাছাড়া আউশ বীজতলা, কাঁচা রাস্তা-ঘাট, পুকুর ও ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার সকালে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত তিন দিনের টানা ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের খাল-বিল, ছড়া ও জলাশয়সমূহ পানিতে ভরে গেছে। ফলে মাঠ-ঘাট ও গ্রাম্য সড়ক পানিতে ডুবে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আর ছোট বড় প্রায় দুই হাজার পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষীদের পুকুরের মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

রংছাতি ইউনিয়নের কৃষক মোঃ মজিবুর মিয়া বলেন, তিন দিনের ভারী বর্ষণে নতুন করে আবারও বন্যার পানি দেখা দিয়েছে। বন্যায় রোপনকৃত আউশ ক্ষেত, বীজতলা ও পুকুর তলিয়ে গেছে এবং গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম হাদিছুজ্জামান হাদিস বলেন, বন্যার পানিতে ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, পুকুর ও রোপনকৃত আউশ, শাক-সবজির ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহেল রানা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক তালুকদার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে।