যুবককে পিঁঠমোড়া বাঁধ দিয়া গ্রাম ঘুরান মাতবর মোহাম্মদ আলী

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০

কলিহাসান
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে তুচ্ছ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে সেকুল মিয়া (৩২)নামের এক যুবককে পিঁঠ মোড়া বাঁধ দিয়ে গ্রাম ঘুরানো ও মোবাইলে ছবি তুলে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতব্বর মোহাম্মদ আলী গংদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থকেই সেকুল মিয়া সামাজিকভাবে লজ্জিত হয়ে গলায় ফাঁসি দিয়ে বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চন্ডিগর ইউনিয়নের ধানশিরা গ্রামে। ভুক্তভোগী ওই গ্রামের মৃত আবুল কাশেম এর ছেলে। সে পেশার দিনমজুর। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার(৩০) জুলাই রাতে ভুক্তভোগীর মামা আব্দুল মোতালেব থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছে। অভিযোগ দাখিলের এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন উপ পরিদর্শক আব্দুল হালিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের ধানশিরা গ্রামের হযরত আলী মন্ডলের পুত্র মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কথা কাটাকাটির ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিনমজুর সেকুল মিয়ার বাড়িতে গ্রাম্য সালিশের ৪-৫দি পূর্বে হামলা করে। এতে সেকুল মিয়ার মাথা,পিঠ,উরু সহ নানাস্থানে গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনদিন চিকিৎসার পর বাড়িতে না যেতে হুমকী প্রদর্শণ করে মোহাম্মদ আলী। এই ভয়ে আটদিন বাড়িতে ছিল না সে।

স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বর স্বপন মুন্সি,সাইফুল ইসলাম এর মধ্যস্থতায় ওই এলাকার মাসুদ মিয়ার বাড়িতে গত ২৮ জুলাই গ্রাম্য সালিশের বৈঠক বসে। মারপিটের শিকার সেই গরীব ও নিরীহ সেকুল মিয়াকে পিঁঠমোড়া বাঁধ দিলে গ্রাম্য সালিশে বসবেন বলে হুসিয়ারী দেন মোহাম্মদ আলী। তার কথায় পিঁঠ মোড়া বাঁধ দেয়ার রফা করেণ মাতবররা। দুই হাত পিঁছনে নিয়ে রশি দিয়ে পিঁঠ মোড়া বাঁধ দেয় আর কোমড়ে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে টেনে ইফসুফ আলীর বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যায়। এ দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে সোস্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিলে মূহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। লজ্জায় আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিচ্ছিলেন এ অসহায় যুবক। এ আত্মহত্যার দায় নিবে। নির্বাক গ্রামবাসী দলবদ্ধ হয়ে এ দরিদ্রের শুধু কান্না দেখেছে। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ আলীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। নিরবে সহ্য করেছে সালিশে উপস্থিত অনেকেই। এ জঘন্যতম অপরাধের সাথে জড়িত মোহাম্মদ আলী গংদেও খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান ভুক্তভোগী সেকুল মিয়া।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়াও কোন মন্তব্য নেওয়া যায়নি। সালিশের অন্যতম দুই মাতবরদের মুঠোফোনে বারবার ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, গ্রাম্য সালিশের নামে পিঁঠমোড়া বাঁধ দিয়ে গ্রাম ঘুরানোর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের অচিরেই গ্রেপ্তার করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও তিনি হুসিয়ারী দেন।