1. rajeshgourpress@gmail.com : rajesh24 :
  2. mediaitbd@gmail.com : mit : Editor
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা:

নেত্রকোণায় নৌকাডুবি : কারণ ও উত্তরণের উপায়

  • আপডেট: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৪০ বার পড়া হয়েছে

মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম

প্রতিটি মৃত্যুই প্রিয়জনদের কাছে বেদনার। দুর্ঘটনার মৃত্যু আরও বেশি কষ্টের। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌযান, বিশেষত নৌকা অন্যতম পরিবহন মাধ্যম। গ্রামাঞ্চল, বিশেষত নদীসংলগ্ন মানুষ নৌকায় যাতায়াত করে থাকে বেশি। প্রায়ই শোনা যায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির খবর।

শুধু নৌকাডুবি নয়, লঞ্চডুবির ঘটনাও ঘটছে অনেক। এ ব্যাপারে একটাই কথা আর তা হল, সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নৌকা ও লঞ্চডুবির একটি বড় কারণ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন।

চালকের দোষেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সাধারণ মানুষ ও কর্তৃপক্ষ যদি সতর্ক থাকে, তাহলে অনাকাক্সিক্ষত এসব দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। সাধারণত দেখা যায়, আনন্দ-উৎসবে ভ্রমণের নৌকাগুলোই বেশি ডুবে থাকে। আনন্দ-ফুর্তি করতে গিয়ে নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়ে তা ডুবে যায়।

এজন্য আনন্দ ভ্রমণের সময় নৌকার যাত্রীদের হৈ-হুল্লোড় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আবহাওয়া বুঝে নৌকা চালানোও একটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।

কিছুদিন আগে মিনি কক্সবাজার নামে খ্যাত নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পর্যটনকেন্দ্র উচিতপুরের হাওরে ঘুরতে এসে নৌকাডুবিতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুটি কন্যাশিশু ও বাকিরা পুরুষ।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, প্রচণ্ড বাতাস ও ঢেউয়ের কারণে ওই ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৬ মে জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার হারাকান্দী নামক স্থানে সকালে ধনু নদীতে ঝড়ো বাতাস আর প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে ডিঙ্গি নৌকা ডুবে দু’জন নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ভগ্নিপতির বাড়িতে বেড়াতে এসে আত্মীয় স্বজনদের সাথে নৌকায় ঘুরতে গিয়ে বাতাসে উল্টে নৌকা ডুবিতে হাসিবা (১৮) নামের এক তরুনীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের রাজনগর হলদিয়া গ্রামের সামনে গুমাই নদীতে বালু বোঝাই নৌকার ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কারণ কী? দায়ী কে?
অদক্ষ চালক? অতিরিক্ত যাত্রী বহন? নাকি প্রচণ্ড বাতাস আর ঢেউ? কাকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন? প্রতিবেদনে বলা হয় বাতাস আর ঢেউ আসামী। তাহলে কি দাঁড়ালো? বেপরোয়া চালকদের উৎসাহিত করা নয় কি?

পরামর্শঃ
নৌকা ও তার মাঝিদের লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসা হতে পারে, মাঝিদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে, লাইসেন্স দানের পূর্বে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা, ফিটনেসবিহীন নৌকা সমূহকে নদী থেকে অপসারণ করা, নৌকায় নিয়মিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া বার্তা শোনার ব্যবস্থা করা, প্রতিটি নৌকায় যথেষ্ট পরিমাণে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখা, সরকারের ইজারাকৃত ঘাটসমূহে পুলিশের ব্যবস্থা করা, এছাড়াও আরও বহুবিধ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আমরা আর হারাতে চাইনা আমার বাবাকে, আমার মাকে, বোনকে, ভাইকে।

এপর্যন্ত নেত্রকোণার নৌকাডুবিতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারবর্গের প্রতি রইল আমাদের সমবেদনা ও আত্মার সুশান্তি কামনা।

লেখকঃ মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম
সম্পাদক ও প্রকাশক
নেত্রকোণা জার্নাল ডটকম

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

আরো সংবাদ পড়ুন
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের যোকোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার