জীবিকার তাগিদে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০২১

গ্রামের বাড়িতে আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে জীবিকার তাগিদে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ।

সোমবার (১৭ মে) সকালে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকার প্রবেশমুখ গাবতলীতে মানুষজনের ফেরার এ দৃশ্য দেখা যায়।
করোনা সংক্রমণরোধে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন যানবাহনে শত ভোগান্তি এবং করোনার স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করছেন।
দক্ষিণবঙ্গ সাতক্ষীরা থেকে আট মাস বয়সের ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন পারুল নামের এক নারী। সায়দাবাদে যাওয়ার জন্য আমিনবাজারে অপেক্ষারত পারুলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার স্বামী সাইদাবাদে থাকেন। তিনি সন্তানকে নিয়ে একাই সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় এসেছেন। বাস সাভারের হেমায়েতপুর তাকে নামিয়ে দেয়। এরপর সেখান থেকে তিনি মালপত্র এবং সন্তানকে নিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় করে আমিনবাজার এসেছেন। তিনি বলেন, সংসারের জিনিসপত্র এবং ছোট বাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্টে গাবতলী পর্যন্ত এসেছি।

রংপুরের তারাগঞ্জ থেকে গতকাল রাত ৮টায় বাসে করে রওয়ানা দিয়ে ঢাকায় ফিরছেন মোহামদ্দপুরের ঢাকা উদ্যানের বাসিন্দা রুস্তম আলি। রুস্তম আলি আলী ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানির গাড়িচালক তিনি। তিনি বলেন, পথে গোবিন্দগঞ্জ বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জে পুলিশ বাস আটকে দেয়। এরপর বাস বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে ভেতর দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেছে। নবীনগর পর্যন্ত এসে বাস নামিয়ে দেয়। এরপর হেঁটে এবং অটোরিকশায় এ পর্যন্ত এসেছি। এর আগের কোনো ঈদে এত কষ্ট হয়নি ঢাকা থেকে বাড়ি যেতে এবং ফেরার সময়।
আমিন বাজারে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট মামুনুর রশিদ বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকায় বাইরে থেকে কোনো গাড়ি ঢুকছে কিনা, তা লক্ষ্য করছি। সকাল থেকে অনুমতি না থাকায় দু’টি বড় বাস ডাম্পিং দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও আমিনবাজার ব্রিজের ওপর পুলিশ সদস্যদের ঢাকায় ফেরাদের মাস্ক পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে দেখা যায়।

সরকারের পরামর্শ ছিল এবারের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ঈদে উদযযাপন করা। কিন্তু তারপরও প্রায় কোটি মানুষ এ পরামর্শ উপেক্ষা করে নানাভাবে বাড়ি গেছেন।
ঈদের ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় আবার জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে ফিরছেন অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ।

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বাড়ি যাওয়া এবং ঢাকায় ফিরে আসার মাধ্যমে দেশে পুনরায় যে কোনো সময় করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।