কলমাকান্দায় ব্যবসায়ী নিহত ও পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ঘটনায় ১২ জন গ্রেফতার

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২৮, ২০২১

নিহত বাঁশ ব্যবসায়ী ও পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভাংচুর ঘটনায় নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে । ওই দুটি মামলায় ১২ জনকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার বিকালে নেত্রকোণা জেলা আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গত বুধবার বিকালে ঝগড়া থামাতে গিয়ে টেঁটার আঘাতে নিহত বাঁশ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির (৪৫) নিহতের ঘটনায় সহোদর বড় ভাই আবুল মিয়া বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ওইদিন রাতেই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন । ওই মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি আবুল কাশেম খন্দকারসহ ১১ আসামিকে গ্রেফতার করে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে নেত্রকোণা জেলা আদালতে পাঠিয়েছেন পুলিশ।

অপরদিকে পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভাংচুর ও কাজে বাঁধা প্রদানের ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নিহত বাঁশ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির (৪৫) এর ছোট ভাই রতন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে গ্রেফতারকৃত ১২ জনকে নেত্রকোণা জেলা আদালতে পাঠিয়েছে কলমাকান্দা থানা পুলিশ।

নিহত আব্দুল কাদির (৪৫) উপজেলার কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নে নয়ানগর গ্রামের খোরশেদের ছেলে। সে পেশায় একজন বাঁশ ব্যবসায়ী।

গত বুধবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ঘটনাস্থল উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের মেদিরকান্দা গ্রাম থেকে ছয়জনকে আটক করে থানায় আনার পথে পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে দুস্কৃতিকারীরা।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, কলমাকান্দা খারনৈ ইউনিয়নের মেদিরকান্দা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ১৮ কাঠা (১৪৪ শতাংশ) জমির দখল নিয়ে গ্রামের মানিক খন্দকারের সাথে দ্বন্ধ, মামলা চলমান ছিল। এনিয়ে গ্রামে সালিশ বৈঠকও এরআগেও হয়েছে। গত বুধবার দুপুর ২টার দিকে বাবুল মিয়া আব্বাসের দোকানে যান এবং জমি সংক্রান্ত আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ের মানিক খন্দকারের লোকজন বাবুল মিয়াকে মারপিট করে। খবর পেয়ে কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের ৬নং ওয়ার্ড আ.লীগের সহ-সভাপতি আবুল মিয়ার ছোট ভাই আব্দুল কাদির ঘটনাস্থলে দরবার করতে আসে। সিদ্দিকের দোকানে বসা দরবারে মানিক ও তারা মিয়া পক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে। এক পর্যায়ে মানিক খন্দকারের ভাই কাশেম খন্দকার উত্তেজিত হয়ে দরবার করতে আসা আব্দুল কাদিরের বুকে টেঁটা বিদ্ধ করে। পরে স্থানীয়রা টেঁটাবিদ্ধ কাদিরকে সহ আহত আরও দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথের মধ্যে কাদির মারা যান।

কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডা. উম্মে সুমাইয় হাসপাতালে আনার আগে কাদিরের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।

এছাড়াও অপর পক্ষের মানিক খন্দকারের ছেলে আলমগীর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.টি.এম মাহমুদুল হক সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পৃথক পৃথক ঘটনায় থানায় দুটি মামলা রুজু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে গ্রেফতারকৃত ১২ জনকে নেত্রকোণা জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে । ওই দু’টি মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে ।