সকাল ৮:৪৫ | ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

সীমান্তবর্তী গ্রাম গুলোতে ঘরে ঘরে জ্বর সর্দি-কাশি

প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২১

রাজেশ গৌড়

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার আদিবাসী গ্রাম গুলোর ঘরে ঘরে জ্বর ও সর্দি-কাশি দেখা দিয়েছে। রোগীরা উপজেলা সরকারি হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিক গুলোতে ভিড় করছেন। সচেতনতা না থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। উপসর্গ থাকলেও নমুনা পরীক্ষার ব্যাপারে এক ধরনের অনীহা রয়েছে অনেকের। এদিকে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর বেশির ভাগ রোগীই মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়ছেন। দুর্বল শরীরে জ্বর নিয়েও অনেকে বাজারঘাটসহ জনসমাগমের এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টিকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এ নিয়ে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে কুল্লাগড়া ও দুর্গাপুর ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী হওয়ায় ওই এলাকার সাধারণ আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন পাহাড়ে লাকড়ি সংগ্রহ এবং নানা ভাবে শ্রমের কাজ করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দেশের বর্তমান করোনা প্রেক্ষাপট এবং সীমান্তের ওপারে ভারতে মেঘালয় রাজ্যে ব্যাপক করোনা আক্রান্তের রোগি থাকায় আতংকে রয়েছে এলাকাবাসী। মৃত্যুর ঝুকি নিয়েই গোপালপুর, ভবানীপুর, দাহাপাড়া, তিনআলী, লক্ষিপুর, ভরতপুর, বারমারি গ্রামের আদিবাসীরা পাহাড়ে লাকড়ি সংগ্রহ ও ক্ষেতে কাজ করার জন্য বেরোতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সামীন্তবর্তী ফান্দা বাজারের ওষুধ বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম জানান সর্দি-কাশি-জ্বরের ওষুধ বিক্রি ব্যাপক বেড়ে গেছে। যা অবস্থা, তাতে মনে হয় এখন ঘরে ঘরে জ্বর। বেশির ভাগ রোগী বা রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে আমাদের কাছে এসে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে আমরাও আংতকে রয়েছি।

সীমান্তবর্তী বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ হুমাউন কবীর বলেন, সীমান্তে অবৈধ চলাচলের বিষয়ে আমরা শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছি। বর্তমান করোনা প্রেক্ষাপটে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ লোকজন, পর্যটকগণ বা কোন প্রকার চোরা-কারবারি আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আসা-যাওয়ার কোন সুযোগ নাই।

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, দৈনিক শতাধিক মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসছেন জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা নিয়ে। এদের মধ্যে অধিকাংশ আদিবাসী নর-নারী। আমাদের মেডিকেল অফিসারগণ ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালু রেখেছেন। আগতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাপত্র দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবস্থান করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখনো সচেতন নয়। আমাদের এলাকায় ব্যপক ভাবে করোনা পজেটিভ দেখা না দিলেও, ভারতের সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসেবে আতংকে রয়েছি আমরা।

  • এই বিভাগের সর্বশেষ