দুর্গাপুরে ছোট কাঠুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন গোখাদ্য’র চারণভুমি!

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ৩:১০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২১

দুর্গাপুর(নেত্রকোান)প্রতিনিধি

দূর থেকে দেখে যায় এটি একটি বিদ্যালয়, তবে কাছে গেলে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মনে হয় এ যেন গোখাদ্য শালা। শ্রেণি কক্ষে ধানের বস্তার স্তূপ। শ্রেণিকক্ষ যেন গুদাম ঘর। অন্য কক্ষে রাখা আছে বেশক’টি ছনের আটি। এমন চিত্র নেত্রকোণার দুর্গাপুরের বাকলজোড়া ইউনিয়নের ৮৮নং ছোট কাঠুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। গত বুধবার (২৩জুন) সকালে সরেজমিন ঘুরে বিদ্যালয়ের এ দৃশ্য চোখে পড়ে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের চরম গাফলতিতে স্থানীয় ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন গত ১৭জুন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে।
অভিযোগের বিবরণ ও স্থানীয়রা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবেশী আকবর আলীর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নুরুন্নাহার ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারি শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক সালমা বেগম প্রায় সময় ওই শিক্ষকের কাছে স্কুলে চাবি রেখে যান। সেই সুবাধে ভাশুড় আকবর আলী বিদ্যালয়ের মাঠে গোখাদ্য শুকিয়ে স্কুলের বারান্দায় জমাটবদ্ধ করে রেখেছেন। ক্লাসরুমের ভিতরে ধানের বস্তা, ছনের আটি এক কোনে সারিবদ্ধ করে রাখেন তিনি। আর সামান্য বৃষ্টি হলেই স্কুলের বারান্দায় বেঁধে রাখেন তার গরু-ছাগল।
স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান শাহজাহান কবির ও তরিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চরম গাফিলতিতে আজ বিদ্যালয়ের এ নাজুক অবস্থা। দায়িত্ব পালনে তারা একেবারে উদাসীন। এ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ দখল করে বিভিন্ন পণ্য রেখেছেন। স্কুলের বেঞ্চ বিভিন্ন ব্যক্তি ও অনেকের দোকানে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণি কক্ষ অত্যন্ত ময়লা আবর্জনায় জরাজীর্ণ।দীর্ঘদিন ধরে নেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি। ফলে প্রধান শিক্ষক সর্বেসর্বা ভূমিকা পালন করছেন। তার উদাসীনতা, গাফিলতি আর অদক্ষতায় প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশায় রুপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সালমা বেগম জানান, আমি তিন বছর হলো এ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের কমিটি ছিল না। আপ্রাণ চেষ্টা করে সম্প্রতি একটি আহবায়ক কমিটি করেছি। আমাকে স্থানীয়রা ওইভাবে সহযোগিতা করছেন না। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে এ ব্যপারাটি জানা নেই।
সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার(ক্লাষ্টার) শীতেশ চন্দ্র পাল জানান, আমি একটি মিটিংয়ে আছি। এখন কথা বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবু তাহের ভূইঁয়া জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সেটি ক্লাষ্টার এটিওকে তদন্তের জন্য দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দু-এক দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলে যাবে। খোঁজখবর নিয়ে অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।