হাজং ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন টংক আন্দোলনের জীবন্ত কিংবদন্তী কমরেড কুমুদিনী হাজং

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২১

সম্পাদনা-রাজেশ গৌড়

লেখক- অন্তর হাজং

হাজং ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি কে রক্ষা করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। সরকারের পাশাপাশি আমাদের নিজ জাতিকেও এগিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি। হাজং ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি রক্ষায় লেখক ও গবেষক শ্রদ্ধেয় শ্রী মতিলাল হাজং,লেখক হরিদাশ হাজং, স্বর্গীয় খগেন্দ্র হাজং ,গবেষক ও লেখক স্বরদিন্দু সরকার স্বপন হাজং, হাজং নেতা আশিষ কুমার হাজং, কন্ঠশিল্পী চন্দনা দেবী হাজং শ্রদ্ধেয় স্বপ্না দেবী হাজং লেখক পল্টন হাজং, লেখক বিপুল হাজং, আদিবাসী লেখক ও গবেষক সোহেল চন্দ্র হাজং তরুন প্রজন্মের আইকন গীতিকার, লেখক, কলামিস্ট ও বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমীর পরিচালক সুজন হাজং লেখক লিটন হাজং লেখক শ্রীধাম হাজং কন্ঠ শিল্পী অনিমেষ হাজং সহ আরও অনেকেই আছেন আপনাদের অবদান অনস্বীকার্য। আপনারা জাতির জন্য কাজ করেছেন, কাজ করে যাচ্ছেন।আমি মনে করি বর্তমান তরুন প্রজন্ম রাও আপনাদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে আমাদের ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি কে রক্ষায় এগিয়ে আসুক।আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেধাবী ভাইবোন রয়েছেন আপনারা এগিয়ে আসুন আমাদের পথ দেখান। প্রবীন নবীন সকলের সন্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের ভাষা,সাহিত্য,সংস্কৃতি কে রক্ষা করতে পারব । আমার স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতিটি হাজং গ্রামে হাজং ভাষা,সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র স্থাপন হবে। এজন্য সকলের সাহায্য সহযোগীতা কামনা করছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রয়েছেন সোহেল চন্দ্র হাজং দাদা এবং বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমীর পরিচালক সুজন হাজং দাদা আপনারা আমাদের জাতির গর্ব। এই বিষয়ে আপনাদের সুদৃস্টি কামনা করছি। আমার বিশ্বাস হাজং ভাষা,সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রে গ্রামের সকলেই অংশগ্রহন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে বা গ্রামে একটি করে লাইব্রেরী থাকবে যেখানে ছেলে মেয়েরা বই পড়বে সাহিত্য চর্চা করবে। থাকবে উন্মুক্ত মঞ্চ যেখানে বক্তৃতা শিখবে হাজং দের ঐতিহ্যবাহী লিওয়াটানা নাচ, মহিষাসুর বধ ইত্যাদি চর্চা
করবে। থাকবে বাদ্যযন্ত্র যেখনে সংগীত ও সংস্কৃতি চর্চা করবে। থাকবে খেলাধুলা সামগ্রী। যেখানে শরীর চর্চা করবে।প্রতি মাসে অন্তত একবার করে হলেও গ্রামের অভিভাবক গন ছেলে মেয়ে দের সাথে বসবেন তাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরনা প্রদান করবেন। আমরা পিতা মাতা রা ছেলে মেয়েদের বলি বড় হয়ে ডাক্তার হও ইঞ্জিনিয়ার হও কিন্তু কেউ বলি না বড় হয়ে দেশবরেণ্য কবি হও , বিখ্যাত লেখক হও সাহিত্যিক হও। আমার বিশ্বাস একদিন আমাদের হাজং দের মধ্যেও দেশবরেণ্য কবি লেখক সাহিত্যিক এর সৃস্টি হবে। আমি হাজং মাতা রাশিমনি এবং বাংলাদেশের আমার সকল হাজং অভিবাবক এবং ভাই বোন দের কে শ্রদ্ধা ও প্রনাম জানিয়ে দুর্গাপুর উপজেলার বহেড়াতুলী গ্রামে উদ্ভোধন করা হয়েছে ১ম হাজং ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। উদ্ভোধন করেন টংক আন্দোলনের অন্যতম নারী নেত্রী কমরেড কুমুদিনী হাজং। তিনি এই উদ্যোগ কে স্বাধুবাদ জানিয়েছেন এবং হাজং ভাষা সাহিত্য চর্চা কেন্দ্রের মঙ্গল কামনা করে বলেছেন হাজং ভাষা চিরজীবী হোক। বহেড়াতুলী গ্রামের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন এর কেন্দ্রীয় কমিটি র সভাপতি জিতেন্দ্র হাজং, দানবীর নিবারন হাজং এবং বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন এর কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রাজন হাজং লাইব্রেরী র জন্য কিছু বই এবং খেলাধুলা সামগ্রী উপহার দিবেন বলে জানিয়েছেন । আমি তাদের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।