দুর্গাপুরে সফল জননী হিসেবে অবদানে উষা রানী পেলো জয়িতা সম্মাননা

রাজেশ গৌড় রাজেশ গৌড়

দুর্গাপুর,নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০২১

রাজেশ গৌড়
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা পরিষদ ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে ‘‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” এ উপলক্ষে ৫ জয়িতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলার সফল জননী হিসেবে অবদানে উষা রানী দে কে জয়িতা সম্মাননা প্রদান করেন ইউএনও রাজীব উল আহসান।

সম্মাননা হাতে উষা রানী দে

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জহুরা, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান, ওসি শাহনুর এ আলম, আদিবাসী নারী নেত্রী লুদিয়া রুমা প্রমুখ।

৫২ বছর বয়সী এই আলোকিত নারী সীমান্তবর্তী নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের মোক্তার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। নিজে পড়ালেখা করতে না পারলেও গৃহ পরিচালিকার কাজ করে সন্তানদের করেছন শিক্ষিত। সার্টিফিকেট মাপে শিক্ষিত না হলেও মনের আলোয় শিক্ষিত নারী ঊষা রানী দে। নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, অপ্রতুল শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝেও সন্তানদের করে তুলেছেন শিক্ষিত ও সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত।

তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উদাহরণ টেনে সন্তানদের উৎসাহ দিতেন এবং বর্তমানে তার সন্তানেরা সুনামের সঙ্গে চাকরিতে নিয়োজিত। শুধু তাই নয় চাকরির পাশা পাশি উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখাতেন ছেলে মেয়েদের ৷ বর্তমানে ছেলে শঙ্খদীপ দে শান্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কর্যাললর অধীনে কিশোর কিশোরী ক্লাব প্রকল্পর আবৃত্তি শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। এর পাশাপাশি বেসরকারী স্কুলের একাডেমিক সুপারভাইজার ও মায়ের অনুপ্রেরনায় নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে সুসং কুঞ্জ ঘর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট পরিচালনা করছে৷

নেপোলিয়ানের অমর বাণী এখানে সার্থকতা পেয়েছে- ”তুমি আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব।” সমাজের প্রতিটি মা হোক ঊষা রানী দের মতো শিক্ষার প্রসূতি।